আমরা স্কাউট প্রতিজ্ঞার ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য সম্পর্কে কি জানি ?

0
363

স্কাউটদের  একটি প্রতিজ্ঞা আছে যার তিনটি অংশ রয়েছে। প্রতিটি অংশই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে প্রতিজ্ঞাটি কি? প্রতিজ্ঞাটি হল:

স্কাউট প্রতিজ্ঞা:

আমি আমার আত্মমর্যাদার উপর নির্ভর করে প্রতিজ্ঞা করছি যে,

*   আল্লাহ ও আমার দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করতে

*   সর্বদা অপরকে সাহায্য করতে

*   স্কাউট আইন মেনে চলতে আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব।

Scout Promise

On my honor I promise that I will do my best

*  to do my duty to god and my country

*  to help other people at all times.

*  to obey the scout law.

প্রত্যেক স্কাউটের কর্তব্য হলো প্রতিজ্ঞার তিনটি অংশ মেনে চলা। এখানে উল্লেখ্য যে, যারা অন্য ধর্মাবলম্বী তারা আল্লাহ শব্দের পরিবর্তে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার নাম বলবে। একজন স্কাউটের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। তার কাছে সবই সম্ভব। যখন তুমি স্কাউট প্রতিজ্ঞা পাঠ করবে, তখন তোমাকে মনে রাখতে হবে, তুমি তোমার নিজের জন্য, আল্লাহর জন্য,অপরের জন্য, দেশের জন্য কিছু না কিছু করবে। তুমি প্রতিজ্ঞা করবে, আমার আত্মমর্যাদার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, আমার আত্মমর্যাদা সুরক্ষার জন্য এই প্রতিজ্ঞা তোমাকে মেনে চলতে হবে।

প্রতিজ্ঞা নেয়ার সময় থেকে স্কাউট হিসেবে আমার নতুন জীবন শুরু হবে। তুমি নতুন দায়িত্ব নেবে। সে জন্য প্রতিজ্ঞার প্রতিটি কথার অর্থ বোঝা দরকার। প্রথম দিকে। স্কাউট প্রতিজ্ঞা ও আইন মেনে জীবন চলার কিছুটা কঠিন মনে হবে। অনেক ত্যাগ ও ধৈৰ্য্য ধারণ করতে হবে। কিন্তু স্কাউট নিয়মে চলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে তুমি একজন ভাল স্কাউট হয়ে উঠবে। ভাল স্কাউট মানেই একজন পরোপকারী, সহানুভূতিশীল ও ন্যায়পরায়ণ তথা আদর্শ মানুষ । কোন বিষয়ে প্রতিজ্ঞা নেয়ার অর্থ হলো, সে বিষয়টি সঠিকভাবে ও দায়িত্ব নিয়ে সম্পন্ন করা। তাই কাজের মাধ্যমে দেখিয়ে দিতে হবে যে, তুমি শুধু প্রতিজ্ঞা পাঠই করোনি তা পালনও করেছ।

এখন দেখা যাক, প্রতিজ্ঞার প্রতিটি অংশের তাৎপর্য কি? আত্মমর্যাদা ও সাধারণভাবে একজন মানুষের নিজের সম্মানকেই তার আত্মমর্যাদা বুঝায়। আত্মমর্যাদাহীন কোন ব্যক্তিকে সুস্থ্য, বিবেকবান মানুষ বলা যায় না। আত্মমর্যাদাহীন ব্যক্তিকে কেউ বিশ্বাস করতে পারেনা। অপর দিকে একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি নিজের প্রতি অত্যন্ত আস্থাশীল, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সৎ, সত্যবাদী ও বিশ্বাসী হয়। সকলে তাকে বিনা দ্বিধায় বিশ্বাস করতে পারে। অর্থাৎ সৎ ও সত্যবাদি হওয়া। তাই স্কাউট প্রতিজ্ঞায় আত্মমর্যাদার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব  আরোপ করা হয়েছে।

আল্লাহ/সৃষ্টিকর্তার প্রতি কর্তব্য পালনঃ স্কাউটিং কেবলমাত্র আস্তিকের জন্য অর্থাৎ যারা কোন না কোন ধর্মের অনুসারী। যারা আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে তারাই শুধু স্কাউট হতে পারে। আল্লাহ মানুষকে শুধু সৃষ্টির সেরা হিসেবেই সৃষ্টি করেননি, মানুষের জন্যই সৃষ্টি করেছেন গাছ-পালা, ফল-মূল, পশু-পাখি, পাহাড় পর্বত, পানি, বায়ু সবই। জমিতে ফসল, মাটির নিচে পানি আর খনিজ সম্পদ দিয়েছেন, এর সবই মানুষের ভোগের জন্য । মানুষ কেবল মাত্র তার বুদ্ধিবলে সে সব আহরণ করছে আর ভোগ করছে। নানান উদ্ভিদ, লতা, গুল্ম, বৃক্ষরাজীর মধ্যে আবার প্রদান করেছে নানান বর্ণ, মনমুগ্ধকর ফুল, সুস্বাদু ফল আর ভেষজ গুনাগুন। মানুষের প্রতি স্রষ্টার এই উদারতার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আমাদের কর্তব্য। স্কাউট প্রতিজ্ঞায় নিজ ধর্ম বিশ্বাস মতে স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য পালনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের প্রতি কর্তব্য পালননঃ পৃথিবীর সকল ধর্মেই নিজের দেশকে ভালবাসা, নিজের জাতির জন্য মংগলকর কাজ করার তাগিদ রয়েছে। ইসলাম ধর্মে মাতৃভূমিকে ভালবাসা ঈমানের অংশ হিসেবে বলা হয়েছে। দেশ বা রাষ্ট্র তার নাগরিকের সুখ-শান্তিতে বসবাস, শিক্ষা, কর্মসংস্থান উপার্জন, নিরাপত্তাসহ নাগরিক সকল বিষয়ের নিশ্চয়তা প্রদান করে। আর সেজন্যই দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কাজ করা, দেশের মংগল হয় এমন চিন্তা করা, দেশের আইন শ্রদ্ধার সাথে মেনে চলা সকলের একান্ত কর্তব্য। দেশপ্রেম এবং উন্নত নাগরিক চেতনাকে সভ্যতার মানদণ্ড হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। সে জন্য দেশের প্রতি কর্তব্য পালনের উপর স্কাউট প্রতিজ্ঞায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

অপরকে সাহায্য করাঃ

‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন প্রাণ সকলই দাও পরের কারণে মরনেও সুখ আপনার কথা ভুলিয়া যাও’

অথবা

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’

কবির এই সব অমর কথা পৃথিবীতে আবির্ভূত মহামনীষীদের মহান বাণীরই প্রতিধ্বনি। অপরের সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়া বা অপরের জন্য সামান্য হলেও কিছু করতে পারার যে তৃপ্তি তা অন্য কোন কাজে পাওয়া যায়না। সর্বকালের ও সর্বযুগের মহান ব্যক্তিগণ অপরকে সাহায্যের মাধ্যমে মানব জীবনের পরম প্রশান্তি লাভের কথা ব্যক্ত করেছেন। তাই স্কাউট প্রতিজ্ঞায় সর্বদা অপরকে সাহায্যের তাগিদ রয়েছে। সর্বদা অপরকে সাহায্য করা ও স্কাউটদের মূলমন্ত্রকে বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বদা অপরকে সাহায্য করতে হবে। অপরকে বিভিন্ন উপায়ে সাহায্য করা যায় । এই সাহায্য ছোট হতে পারে আবার বড়ও হতে পারে। অন্যের বিপদে এগিয়ে আসলে নিজের বিপদের সময় অন্যেরা সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। তাই সর্বদা অপরকে সাহায্য করা উচিত।

স্কাউট আইন মেনে চলাঃ  স্কাউটদের সাতটি আইন আছে। এগুলোকে মেনে চলতে হবে। প্রতিটি আইনকে আকড়ে ধরতে পারলে কোন মানুষেই কখনো বিপথগামী হতে পারে না। বরং সে সকলের জন্য আদর্শ হিসেবে বেঁচে থাকতে পারে।

যথাসাধ্য চেষ্টা করাঃ  জীবনে সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো চেষ্টা। চেষ্টার মাধ্যমেই স্কাউটদের সাতটি আইন মেনে চলতে পারলে যে কোন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। সবকিছু সব সময় সফল করা যায় না। তবে সফলতার জন্য তুমি যে চেষ্টা করবে তার মূল্য অনেক। কাজে প্রমান করতে না পারলেও তোমার সাধ্যমত চেষ্টা করার জন্যই অনেকের কল্যাণ হবে এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনের পথ খুলে যাবে । স্কাউটিং তোমার ক্ষমতার বাইরে কাজ চায় না। কোন রকম জোরজুলুমও করা হয় না, বরং এটা নিশ্চিত করতে চায় তুমি ভালো মনে কাজ করছ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here