বিপি ও স্কাউট আন্দোলন

0
67

স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন রবার্ট ষ্টিফেনশন স্মিথলর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল। তিনি ১৮৫৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী, লন্ডণের হাইক পার্কে গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার হলেন প্রফেসর রেভারেন্ট এইচ,জি, বেডেন পাওয়েল। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ও বৈজ্ঞানিক ছিলেন। বিপির মাতা ছিলেন বৃটিশ এডমিরাল ডব্লিউ, টি, স্মিথের কন্যা হেনরিয়েটা গেসা। বি,পিরা সাত ভাই বোন ছিলেন এবং তার মধ্যে তিসি ছিলেন পঞ্চম। ১৯১২ সালে ২৯ অক্টোবর বিপি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রীর নাম ওলাভ সোয়েমস। তাঁর এক ছেলে, দুই মেয়ে ছিল। ছেলে ও মেয়েদের নাম হল পিটার, হিতার ও বেটী। বি,পি, ১৯৪১ সালে ৮ জানুয়ারী কেনিয়া শহরে নিয়েরী নামক স্থানে নিজ বাসভবন ‘পেক্সতু’ তে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ছোট বেলা থেকেই ব্যাডেন পাওয়েল তাঁর ভাইদের সাথে সমুদ্র ও স্থল পথে দেেেশর অনেক স্থান ভ্রমণ করেন। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি রহস্য দর্শনই ছিল এসব ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য। এসব ভ্রমণের মাধ্যমেই তিনি নিজের কাজ নিজে করতে এবং দলগত কাজ করতে শিক্ষা লাভ করেন। আর এটাই তাঁর ভবিষ্যৎ স্কাউট জীবনের ভিত্তি।
১৮৭০ সালে বিপি লন্ডন নগরীর চার্টার হাউস স্কুলে ভর্তি হন। সুযোগ পেলেই স্কুল পালিয়ে তিনি স্কুলের পিছনে বনের ভিতরে প্রবেশ করতেন।সেখানকার পশুপাখি গাছ গাছড়া লতা পাতা পর্যবেক্ষণই ছিল তার প্রধান উদ্দেশ্য। বিদ্যালয়ের সকল কাজ কর্মে তিনি ছিলেন মধ্যমনি। তিনি ব্যাংগচিত্র আঁকতে খুব ভালবাসতেন। ডান বাম দুটি হাতেই সমান ভাবে সকল কাজ করতে পারতেন। এ সব গুণাবলী তার ভবিষ্যত স্কাউট জীবনের সহায়করূপে কাজ করে।
আর এসব ঘটনা থেকেই বিপি উপলদ্ধি করলেন “মানুষের মনকে উপবাসী েেখ তার জীবন সুন্দর করে গড়ে তুলা যায় না। যে বয়সে মন যা চায় তাই দিয়ে তাঁকে খুশী রাখতে হবে এবং এরই ভিতর দিয়ে নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে করতে হবে তার চরিত্র গঠন।”
এ সব উপলদ্ধিই তার স্কাউটিং পরিকল্পনার মূল ভিত্তি।
১৮৭৬ সালে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হন। সরাসরি সাব লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগদান করে ১৮৭৬ সালে ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতে আসেন।
তাঁর তীক্ষ¥ বুদ্ধি ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২৬ বছর বয়সে ক্যাপ্টেন পদে এবং বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ৪৩ বছর বয়সে মেজর জেনারেল পদ অর্জন করেন।
১৯০৭ সালে বিপি ইন্সপেক্টর জেনারেল পদ থেকে চাকুরী জীবনের ইতি টানেন এবং স্কাউটিংয়ের গোড়াপত্তনের কাজে মনোযোগী হন।
তিনি ১৯০০ সালে ম্যাফেকিংয়ে বুয়রদের সাথে যুদ্ধকালীন ২১৭ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর জয়লাভ করেন।
পরিকল্পনার শুরুতেই তিনি চিন্তা করলেন “প্রশিক্ষণের পদ্ধতি হবে আনন্দে ও কৌতুকে ভরা।” এই যুক্তি সামনে রেখে তার বন্ধু আর্থার পিয়ারসনের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দুজনে মিলে ব্রাউনসী দ্বীপে প্রথম স্কাউট শিবিরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। সাথে সাথে দৈনিক নয় ঘন্টা পরিশ্রম করে “স্কাউটিং ফর বয়েজ” বইটি পান্ডুলিপি প্রস্তুত করেন। আর্থার পিয়ারসন যাকে সংক্ষেপে বলা হয় এ.পি. বইটি প্রকাশের দায়িত্ব নেন। বইটি প্রকাশনার জন্য আর্থার পিয়ারসন ১০০০ পাউন্ড দান করেন। অবশেষে পোল হারবারে অবস্থিত ব্রাউনসী দ্বীপের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে প্রথম স্কাউট শিবিরের স্থান নির্বাচন করেন। সাথে সাথে তিনি এইচ রবসন ও জি, ডব্লিউ, গ্রীণ নামক দুজনের উপর স্কাউট সংগ্রহের দায়িত্ব অর্পণ করেন। সার সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন জি, ডব্লিউ, গ্রীন। স্কাউট বাছাইয়ের পর স্কাউটদের শিবিরে আগমনের জন্য এবং অভিভাবকদের নিকট অনুমতির জন্য পত্র প্রেরণ করেন এতে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়।
এই শিবিরে স্কাউটরা ৫ সদস্য বিশিষ্ট মোট ৪টি উপদলে বিভক্ত ছিল। যথাঃ (১) ডড়ষাবং (২) ইঁষষং (৩) ঈধৎষবংি (৪) জবাধহং। এই শিবিরে শিক্ষনীয় বিষয় ছিল বনকলা, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, শৃংখলা, জীবন রক্ষা, দেশপ্রেম, ডাক্তারী গিরো, শিট বেন্ড ও ক্লোভ হিচ। শিবির পরিচালানা কাজে তাঁকে তাঁকে সাহায্য করেন পি ডব্লিউ এভারেষ্ট ও মেজর কেনেথ মেকলারেন। এই শিবিরে স্কাউটদের নির্দিষ্ট কোন পোষাক ছিল না। তাবে বিপি হাফ প্যান্ট, হাতা গোটানো শার্ট , সোল্ডার নট, নেকটাই ও বড় কিনারা বিশিষ্ট টুপী পরিধান করেন। পরবর্তীতে স্কাউটদের জন্য তিনি আফ্রিকার পুলিশ বাহিনীর পোশাক নির্বাচন করেন। এই শিবির সফলতার সাথে সম্পন্ন হওয়ায় তৎকালে লন্ডনের যুব কিশোর সমাজে দারুন আলোড়ন সৃষ্টি করে।
১৯০৮ সালে “স্কাউটিং ফর বয়েজ” বইটি ৬টি খন্ডে প্রকাশিত হবার পর সারা ইংল্যান্ডে স্কাউট দল খোলার ব্যাপক হিড়িক পড়ে যায়। আগস্ট মাসে নর্দাম্বার ল্যান্ডের হামস নামক স্থানে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ শিবির। নবগঠিত বিভিন্ন স্কাউট দলের কর্মকর্তাগন বিপিকে পত্র মারফৎ তাদের দল পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। বিপি দল পরিদর্শনের কাজে দারুন ভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ বছরই দক্ষিন আফ্রিকার চিলিতে প্রথম বিদেশী স্কাউট দল সংগঠিত হয়।
১৯০৮ সালে বিপি’র লেখা ‘স্কাউটিং ফর বয়েজ’ বই ছয়টি খন্ডে প্রকাশিত হয়।
১৯০৯ সালে লন্ডনের ক্রীস্টাল প্যালেসে স্কাউটদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রাজা পঞ্চম জর্জ স্কাউটিং কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানান।
১৯০৯ সালে স্কাউটিং ব্যাপক সম্প্রসারণের কারণে সংগঠনের জন্য পুরোপুরি আত্মনিয়োগের ব্যাপারে সম্্রাট সপ্তম এডওয়ার্ডের মতামত চাইলে সম্রাট সংগঠনের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
১৯১০ সালে গার্ল গাইড ১৯১৪ সালে উলফ কাব প্রবর্তিত হয়।
১৯১১ ৪ঠা জুলাই উইন্ড সর গ্রেট পার্কে স্কাউট সমাবেশে বিপি রাশ ইন পদ্ধতিতে রাজা পঞ্চম জর্জকে অভ্যর্থনা জানান। এখানেই স্কাউটিং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তীতে সারা বিশ্বে স্কাউটিং সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে স্কাউটিংই বিশ্বের সেরা স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here